(দিনাজপুর২৪.কম) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কাউকে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন করার ইচ্ছা সরকারের নেই কিন্তু আইনের কারণে কেউ যদি নির্বাচনের বাইরে থাকে সেখানে সরকারের কিছু করার নেই।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ২২তম জুডিসিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে যেতে পারবে কি পারবে না এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দুই রকম রায় আছে। তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি এখন হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। আপিলের পর চাইলে জামিনের আবেদন করতে পারেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। সরকারের যেখানে কিছু করণীয় নেই, সেখানে সরকারকে কিছু করতে হবে, আর সরকার কিছু না করলেই হুমকি-ধামকি দিবে। এসব দিলে কিন্তু সরকার ভীত হবে না। এখানে সংঘাতের কোন প্রশ্ন নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন সকলের জন্য সমান, কেউ আইনের উধ্বের্ নয়। এসব ব্যাপারে কোন হুমকি-ধামকিতে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটবে না। এটাই হচ্ছে পরিষ্কার কথা।

এর আগে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের মনে করিয়ে দেন, সময় প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা, আচার- আচরণ, দাবি-দাওয়া সহ সকল বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে। তাই বলা হয় যে, Change is the only constant thing in this earth. সুতরাং এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে আমাদের সবাইকে সময়োপযোগী, আধুনিক এবং বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার কোন বিকল্প নাই। সনাতনী ও সেঁকেলে ব্যবস্থা দ্বারা আধুনিক কালের কোন সমস্যা নিরসন করা দুরহ ব্যাপার। তেমনি সনাতনী মন মানসিকতা দিয়েও বর্তমান কালের কোন সমস্যা বা সংকট অনুধাবন করা কঠিন। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা বিচারিক সকল বিষয়ে এ কথা প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থী জনগণ প্রতিনিয়ত নানা রকমের সমস্যা বা দাবি-দাওয়া নিয়ে আদালতে হাজির হন। তাছাড়া বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হওয়ায় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে Communication & Connectivity বৃদ্ধি পাওয়ায় হাজারো রকমের বিরোধের উদ্ভব হয়।

সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন বিষয়ে নিজেকে পরিচিত করার জন্য, আইনের জটিল সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরো দৃঢ় করার জন্য প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য বিভিন্ন Specialized & Tailor-made প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করে আসছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন। -ডেস্ক