(দিনাজপুর২৪.কম) ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন বৃটেনের হাই প্রোফাইল ইসলামী নেতা আনজেম চৌধুরী। লন্ডনের ওল্ড বেইলি কোর্টে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা অনলাইনে বক্তব্য ও বার্তা প্রচার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আইএসের পক্ষে সমর্থন দিতে মানুষকে উৎসাহিত করেছেন। একই অভিযোগ আনা হয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আনজেম চৌধুরী বা দু’জনের প্রত্যেকেরই ১০ বছর করে জেল হতে পারে। আইএস বর্তমানে সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযোগ আছে, আনজেম চৌধুরীর অনুসারীরা বিশ্বজুড়ে অনেক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, আনজেম চৌধুরী বৃটেনের বাইরে সুপরিচিত। ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হামলার সময়গুলোতে তিনি নিয়মিত টিভিতে উপস্থিত হয়েছেন এবং মুসলিমদের টার্গেট করার জন্য পশ্চিমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করেছেন। লন্ডন পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী কমান্ডের প্রধান ডিন হেডন বলেছেন, এসব লোক অনেক বছর ধরে আইনের অধীনে এখানে অবস্থান করছেন। তবে তারা যে প্রভাব রাখছেন তা নিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী বিশ্বে কোন সংশয় নেই। তারা ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তারা মানুষকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। প্রসিকিউটররা বলেছেন, সামাজিক মিডিয়াগুলোতে পোস্টিং দিয়ে আবু বকর আল বাগদাদী ঘোষিত খেলাফতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন আনজেম চৌধুরী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিজানুর রহমান (৩৩)। তারা ওইসব পোস্টে আহ্বান জানিয়েছেন, তার (বাগদাদী) প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা বা তাকে সমর্থন দেয়া মুসলিমদের দায়িত্ব। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দু’জনই। তারা বলেছেন, তারা সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত নন। গত মাসে তাদেরকে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু আইনী কারণে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অভিযোগ প্রকাশ করা হয় নি।
বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আল মুহাজিরন নামের সংগঠনের সাবেক প্রধান আনজেম চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার পর দায়ীদের প্রশংসা করার কারণে তিনি অখ্যাত হয়ে ওঠেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি বাকিংহাম রাজপ্রাসাদকে একটি মসজিদ বানাতে চান। ২০০৫ সালে লন্ডনে বোমা হামলা চালায় ইসলামপন্থি উগ্রবাদিরা। সেই হামলায় তিনি নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এ ছাড়া মাঝে মাঝেই তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি সব সময়ই জঙ্গি কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে কোন সন্ত্রাসী অপরাধে অভিযুক্ত করাও হয় নি। ওদিকে ২০০৬ সালে একটি প্রতিবাদ র‌্যালি হয়। তাতে আফগানিস্তানে ও ইরাকে বৃটিশ ও মার্কিন সেনাদের হত্যা করতে অনুসারীদের উদ্বুদ্ধ করেন মিজানুর রহমান। এ জন্য তাকে দু’ বছরের জেল দেয়া হয়েছিল।
১৯৯০ এর দশকে সিরিয়ান বংশোদ্ভূত ইসলামিক নেতা ওমর বকরি প্রতিষ্ঠা করেন আল মুহাজিরন। দ্রুত এর বিস্তার ঘটে। এটাকে জঙ্গিদের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়। ২০০৫ সালে ওমর বকরিকে বৃটেন থেকে বের করে দেয়া হয়। আর তার এ সংগঠনটি ২০১০ সালে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ করা হয়।
পুলিশ বলেছে, ২০১৩ সালে লন্ডনের রাস্তায় বৃটিশ সেনা সদস্য লি রিগবিকে কুপিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী। তার মধ্যে অন্যতম মাইকেল আদেবোলাজো। আনজেম চৌধুরী আয়োজন করেছিলেন এমন একটি প্রতিবাদ সমাবেশে সে যোগ দিয়েছিল। গত বছর লন্ডনের একজন সেনা সদস্যকে শিরñেদ করার অভিযোগে বিচার করা হয় এক টিনেজ মুসলিমের। সে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছে। ওই টিনেজ বলেছে, সে আল মুহাজিরনের সঙ্গে যুক্ত। এ গ্রুপটির প্রভাব বৃটেনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যারা যুক্ত তার মধ্যে অন্যতম আবু হামজা আল মাসরি। তাকে সন্ত্রাস সম্পর্কিত অপরাধে জেল দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ সালে কানাডার রাজধানীতে এক সেনা সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে মাইকেল জেহাফ বিবিউ। এরপর সে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে। সেও টুইটারে অনুসরণ করতো আনজেম চৌধুরীকে, যদিও আনজেম চৌধুরী ওই সময়ে বলেছিলেন, জেহাফ বিবিউয়ের সঙ্গে তার কোন যোগাযোগ নেই।
ডিন হেডন বলেছেন, এই ব্যক্তিদের লেকচার বা বক্তব্যে উপস্থিত থেকেছে এবং তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে অপরাধ ঘটিয়েছে এমন অনেক মানুষ আছে। আমরা বার বার এমন মানুষের বিচার হতে দেখেছি।
আনজেম চৌধুরী ও মিজানুর রহমান দু’জনেই বলেছেন তারা নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি মানেন। এর অর্থ হলো এই নিরাপত্তা চুক্তির অধীনে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে যেখানে তারা বসবাস করেন এবং তারা সুরক্ষিত সেখানে হামলা চালাতে মুসলিমদের নিষেধ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে এক সাক্ষাতকারে রয়টার্সকে আনজেম চৌধুরী বলেছিলেন, আমরা এক বিশ্ব সম্প্রদায়ে বসবাস করছি। সিরিয়া ও ইরাকে কি ঘটছে সেদিকে সারাবিশ্বের মুসলিমদের দৃষ্টি রয়েছে এতে আমার কোন সন্দেহ নেই। তারা যদি শরীয়া আইন জানতে চান তাহলে এক সময় আমাদের কাছে আসতেই হবে। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা মানুষকে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাতে উৎসাহিত করছি।  – ডেস্ক রিপোর্ট