(দিনাজপুর২৪.কম) জেমস অ্যান্ডারসনকে করা প্যাট কামিন্সের প্রথম বলটাই হেলমেটে আঘাত করল। এক পা পিছিয়ে এসে বসে পড়লেন ইংল্যান্ডের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান। ততক্ষণে পুরো অস্ট্রেলিয়া দল ছুটে এসেছে তাঁর কাছে; ফিল হিউজের মৃত্যুর পর থেকে যা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের নিয়মিত দৃশ্য। মজার ব্যাপার হলো, এরপরই টানা তিনটি শর্ট বল করলেন কামিন্স। মরি মরি করেও এ যাত্রা বেঁচে গেলেন অ্যান্ডারসন।

দৃশ্যগুলোকে এবারের অ্যাশেজের রূপক মানতে পারেন। হ্যাঁ, ইংলিশদের প্রাণে মারেনি স্টিভেন স্মিথের দল। কিন্তু ব্যাটে-বলে প্রতিনিয়ত হেনস্তা করে ছেড়েছে অতিথিদের। বিদেশ-বিভুঁইয়ে বড্ড অসহায় হয়ে পড়েছে জো রুটের দল। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে টানা তৃতীয় পরাজয় মেনে নিয়েছে অভিজাত থ্রি লায়নরা, ওয়াকায় পরাজিত হয়েছে ইনিংস ও ৪১ রানে। স্মিথসহ পুরো দলের বুনো উল্লাসে অস্ট্রেলিয়া যেন জানিয়ে দিল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ট্রফিটা এবার তাদের দেশেই ফিরছে। এক ক্যাঙারুতেই কাবু তিন সিংহ!

সর্বশেষ অ্যাশেজে ইংল্যান্ডে ৩-২-এ হেরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার নিজেদের মাটিতে ইংলিশদের ধবলধোলাই হওয়ার লজ্জার সামনে ফেলে দিল। বাকি দুই টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি ইংল্যান্ড? এখন পর্যন্ত সিরিজে তাদের যা অবস্থা, তাতে মানসিক প্রতিরোধের শক্তিটাও ইংলিশদের আছে কি না, তা প্রশ্নের মুখে। সিরিজের প্রথম তিন টেস্টেই অ্যাশেজ জিতে ফেলার মাত্র দশম উদাহরণ এটি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই এই কীর্তি করেছে নয়বার।

চতুর্থ দিনের শেষে বৃষ্টি-বিড়ম্বনায় প্রায় ৪০ ওভার খেলা হয়নি। পঞ্চম দিনের শুরুতেও বৃষ্টি, যা বিপরীতমুখী অনুভূতি দিল দুই অধিনায়ককে। তবে সময়ের আগেই যখন দুই দল লাঞ্চে গেল, তখনই বোঝা গিয়েছিল খেলা হবে। ভেজা পিচকে খেলার উপযোগী করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করলেন মাঠকর্মীরা। লাঞ্চের পর আরেক প্রস্থ বৃষ্টি শেষে মাঠে নামলেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ডেভিড মালান ও জনি বেয়ারস্টো।

দ্বিতীয় ওভারেই জশ হ্যাজেলউডের আঘাত, বেয়ারস্টোর স্টাম্প ভেঙে দিলেন ডানহাতি পেসার। এরপর মঈন আলী ও মালানের ৩৯ রানের ছোট্ট জুটি। উইকেটের ভঙ্গুর অবস্থা দেখে নাথান লায়নকে আক্রমণে আনলেন স্মিথ। প্রথম ওভারেই মঈনকে ফিরিয়ে দিলেন লায়ন।

এরপর থেকে শর্ট বলের অনুপম প্রদর্শনী দেখালেন স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজেলউডরা। তাতে ২২ রানে ইংলিশরা হারাল শেষ ৪ উইকেট। ৫৪ রান করা মালানকে আউট করেছেন হ্যাজেলউড, এরপর ক্রেইগ ওভারটনকে ফিরিয়ে দিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ২টি করে উইকেট কামিন্স ও লায়নের। ২১৮ রানে অলআউট হয়ে দুই টেস্ট বাকি থাকতেই অ্যাশেজ খোয়ালেন রুটরা। ২৩৯ রানের ম্যারাথন ইনিংসের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন অধিনায়ক স্মিথ। -ডেস্ক