প্রফেসর দিলারা হাফিজ(দিনাজপুর২৪)অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিকের যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার অধিকারও রয়েছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে নাগরিকরা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগও পেয়ে থাকেন। আমাদের দেশের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান কেন্দ্রগুলোর অবস্থার কথা তো বলাই বাহুল্য; সরকারি, বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ অথবা অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় প্রদান করেও যে সেবা পাওয়া যায়, মাঝে মাঝে তার দু-একটা খণ্ডচিত্র প্রকাশ হয়ে গেলে অাঁতকে উঠতে হয়। ১১ জুনের যুগান্তর এবং ১১, ১২, ১৩ জুনের বাংলাদেশ প্রতিদিনে এরকমই কয়েকটি খণ্ডচিত্র প্রকাশিত হয়েছে।
খণ্ডচিত্র (১) যুগান্তর-১১/৬/১৫

দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্- হাত-পা বেঁধে অস্ত্রোপচারের পর শিশু ছাত্রীর মৃত্যু, দশমিনা প্রতিনিধি।

এই প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের গয়জুদ্দীন হাওলাদারের মেয়ে শাহ কেরামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া পেটের ব্যথার জন্য ২ জুন দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মৃণাল কাান্তি রায় রোগীর আত্মীয়স্বজনদের জানান, অ্যাপেন্ডিসের ব্যথা হচ্ছে, অনতিবিলম্বে অস্ত্রোপচার করতে হবে। ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে ৩ জুন সকাল ৯টায় কোনো ধরনের অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার না করেই ডাক্তার তড়িঘড়ি করে লামিয়ার হাত-পা বেঁধে অপারেশন করেন। রোগীর প্রাণফাটা চিৎকারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে হৈচৈ পড়ে যায়। অস্ত্রোপচার শেষে ডাক্তার জানান, রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। পরবর্তীতে আত্মীয়রা প্রথমে শিশুটিকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার শ্যামলী শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শিশুটি মারা যায়।

লামিয়ার সহপাঠী ও শিক্ষকরা চিকিৎসার নামে শিশুটিকে এভাবে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়ার বিচার চান। কিন্তু ডাক্তার মৃণাল কান্তির সঙ্গে সরকারদলীয় জনৈক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়তা আছে এই সুবাদে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরের দশমিনা প্রতিনিধির কাছে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিক চিকিৎসক ডাক্তার মৃণাল কান্তি সম্পর্কে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, ওই চিকিৎসক তার আত্মীয় নেতার প্রভাব খাটিয়ে অতিরিক্ত টাকার লোভে উপযুক্ত অস্ত্রোপচার সামগ্রী না থাকা সত্ত্বেও এবং ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই আন্দাজের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার নামে একের পর এক অঘটন চালিয়ে যাচ্ছেন।

খণ্ডচিত্র (২) বাংলাদেশ প্রতিদিন-১১/৬/১৫

ডাক্তার না কসাই- অপারেশন করে ভুয়া ডাক্তার, মৃত্যুশয্যায় রোগী, শেখ সফিউদ্দীন জিন্নাহ।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আমরাইদ জেনারেল হাসপাতাল। উপজেলার টোক ইউনিয়নের ঘোষের কান্দি গ্রামের নাইমা আক্তার ২৯ এপ্রিল পেটে ব্যথা অনুভব করেন। ব্যথা অসহনীয় হয়ে পড়ায় তার দরিদ্র স্বামী হাবিবুর রহমান এবং আত্মীয়স্বজন পাশের বাড়ির দালাল মোবারকের মাধ্যমে রাত ৮টায় তাকে আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত ডাক্তার তার রক্ত এবং মূত্র পরীক্ষা করে জানান, গর্ভবতী নাইমা এবং তার সন্তানকে বাঁচাতে হলে এখনই অস্ত্রোপচার করতে হবে, না হলে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে দুজনই মারা যেতে পারে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডাক্তার আবু বকর সিদ্দিক, তার সহযোগী আরও একজন ডাক্তার এবং দুজন নার্সকে নিয়ে অস্ত্রোপচার শুরু করেন। নাইমা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

কিন্তু অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চিকিৎসক তার দলবল নিয়ে যে নির্মম কসাইসুলভ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, নাইমা তার ভয়াবহ বর্ণনা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী প্রথমে নার্স তার ডান বাহুতে একটা ইনজেকশন দেন। মিনিট দশেক পরে ডাক্তার তার পেটের নিচের অংশ কাটতে শুরু করেন। তীব্র যন্ত্রণা এবং ব্যথায় চিৎকার দিয়ে তিনি অপারেশন টেবিল থেকে উঠে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ডাক্তার তার সহযোগীদের নিয়ে তার হাত-পা শক্ত করে দড়ি দিয়ে টেবিলের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। নিচের অংশ কেটে যখন ডাক্তার বাচ্চা বের করতে পারছেন না, তখন তিনি পেটের উপরের অংশ কাটেন এবং একপর্যায়ে বাচ্চা বের করে আনেন। চিকিৎসার নামে এই পৈশাচিক অত্যাচারের শিকার নাইমার নিজের ভাষায়- ‘মনে অয়ছিল, ডাক্তারের বেশে আজরাইল আমার জান কবজ করতাছে। আমি দমে দমে খোদারে ডাকছি। হেই রাতের কষ্টের কতা আমি বুঝাইতে পারতাম না। আমি ডাক্তারগরে বারে বারে বাপ ডাকছি। খোদার দোহাই কইছি, আমি আর সইবার পারতাছি না, আমারে ছাইড়া দেন। জীবনটা ভিক্ষা চাইছি। ছুরি দিয়া পেট কাইট্যা ফালাইবার সময় আমি জোরে জোরে কান্দি দেইখ্যা ডাক্তার আমার মুহের ভিতর হের মোবাইল ফোনডা ডুহাইয়া দিচ্ছে। একবার নয়, দুই-দুইবার আমার পেট কাটছে জল্লাদ ডাক্তার।’

এখানেই শেষ নয়। অপারেশনের পর রক্তক্ষরণ চলছে দেখে তাড়াহুড়ো করে পেট সেলাই করা হয়। নাইমার পেটের ব্যথা চলতে থাকে। ৬ মে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। বাড়িতে গিয়েও প্রচণ্ড ব্যথা চলতে থাকলে তাকে ওই হাসপাতালে আবার নিয়ে এলে হাসপাতালের লোকজন তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। পরবর্তীতে ওই দালালদের মাধ্যমেই ৩ জুন তাকে কিশোরগঞ্জের ‘দি খিদমাহ’ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা একটি গজ কাপড় (ব্যান্ডেজ করার) বের করা হয়। এখানকার চিকিৎসক ডাক্তার মজিদ বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধিকে জানান, সময়মতো এটা বের না করলে রোগীকে বাঁচানো যেত না এবং এখনো তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।

সফিউদ্দিন খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার নামে হঠকারিতার এটাই একমাত্র উদাহরণ নয়। এই হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসকদের এ ধরনের চিকিৎসায় ইতিপূর্বেও একজন প্রসূতি ও তিনজন নবজাতক মারা গেছে। অনেক সাধারণ মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুও হয়ে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালের মালিক আলম সিকদার বলেন, ‘ভুল তো মানুষেরই হয়। ভুল হয়েছে, তাই রোগীকে কিশোরগঞ্জে নিয়ে সম্পূর্ণ আমাদের খরচে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।’ অবশ্য নাইমার বাবা দরিদ্র কৃষক মো. রফিক জানান, মেয়ের চিকিৎসায় দেড় মাসে দুই লাখ টাকা খরচ করেছেন। ধারদেনায় মেয়ের চিকিৎসা করে এখন তিনি নিঃস্ব। গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলী হায়দার জানান, ‘ঘটনার বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খণ্ডচিত্র (৩) বাংলাদেশ প্রতিদিন-১২/৬/১৫

চিকিৎসকের অবহেলা- কলেজ ছাত্রী জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে- বিশেষ প্রতিনিধি।

অষ্টাদশী শারমিনের মা সুফিয়া সরকার সাংবাদিকদের জানান, শারমিনের জিহ্বার গোড়ার দিকে একটা সিস্ট ছিল। এটার জন্য তাকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জুন নাক, কান, গলা বিভাগের প্রধান ফিরোজ আহমেদ খানের অধীনে ভর্তি করা হয়। জ্ঞান ফিরে এলে তাকে পোস্ট অপারেটিভে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হয়। প্রতিবেদক লিখেছেন, হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডাক্তার ফিরোজ আহমেদ খানের অধীনে শারমিনকে ভর্তি করা হলেও তিনি নিজে না করে সহকারী ডাক্তার আবুল হোসেনকে দিয়ে অপারেশনটি করান। অ্যানেসথেসিয়া প্রথমে করেন ডাক্তার প্রভেল। তিনি তার কাজ শেষ না করেই চলে যান। পরে অবশিষ্ট কাজ করেন ডাক্তার করিম। পোস্ট অপারেটিভ রুমে ছয়জন রোগীর জন্য শুধু একজন নার্স ছিলেন। চিকিৎসকদের অবহেলায় একপর্যায়ে শারমিনের হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ক অকেজো হতে শুরু করে। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে শ্বাস-প্রশ্বাস চালানোর ব্যবস্থা হয়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ প্রফেসর শফিকুর রহমানকে প্রধান করে মঙ্গলবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তারা কিছু বলতে পারছে না। ডাক্তার ফিরোজ আহমেদ খান বলেন, রোগীর স্বজনদের আশা আমি পূরণ করতে পারিনি এটা আমার ব্যর্থতা। এটি একটি দুর্ঘটনাও বলা যেতে পারে। অপারেশনে তার সমস্যা হয়নি, সমস্যা হয়েছে অ্যানেসথেসিয়ায়।

বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৪/৬/২০১৫

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ।

অবশেষে শারমিনকে মৃত ঘোষণা- শেখ সফিউদ্দীন জিন্নাহ্।

অবশেষে কর্তৃপক্ষ শারমিনকে মৃত ঘোষণা করেছে। গতকাল রাত সোয়া ১০টার দিকে কর্তৃপক্ষ তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। শারমিন গাজীপুরের কাউলতিলার ঝুলাড়পাড় এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক সরকার ও সুফিয়া সরকারের কন্যা। পরিবারের অভিযোগ, সারাক্ষণ হাসিখুশি থাকা মেধাবী এই শিক্ষার্থী ডাক্তারদের অবহেলার শিকার হয়ে মারা গেছেন। যিনি নিজেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন।

প্রতিবেদক আরও লিখেছেন, শারমিনের ভগ্নিপতি হুমায়ুন কবীর জানান, হাসপাতালের লোকজন এখন মোটা অঙ্কের টাকা দিতে চাচ্ছেন। মিডিয়া ও থানায় কোনো অভিযোগ না দিতে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

পাঠক চিন্তা করে দেখুন চিকিৎসার নামে কী অনাচার চলছে আমাদের দেশে? সুস্থতার জন্য মানুষ সরল বিশ্বাসে যাদের কাছে নিজেদের সঁপে দিচ্ছে, সেই তথাকথিত চিকিৎসকরা রোগীদের কোরবানির পশু বানিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করছেন। চিকিৎসা একটি মহান পেশা বলেই সর্বযুগে স্বীকৃত। কিন্তু এটাকে এখন একটি বিবেক বর্জিত জঘন্য ব্যবসায় রূপান্তরিত করার পাঁয়তারা চলছে। বছর দেড়েক অথবা দুয়েক আগে এ ধরনের ভয়াবহ আরেকটা খবর পত্রিকায় দেখেছিলাম। সেটা হলো কোনো একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে (নাম মনে নেই) অপারেশনের ব্যাপারটা ডাক্তাররা এতই হেলাফেলার পর্যায়ে ফেলে রেখেছেন যে, অপারেশন করাকালে অনেক সময় তারা ট্রেনিংপ্রাপ্ত নার্সদের বদলে ক্লিনিকের পিয়ন, বেয়ারা, এদের সহকারী হিসেবে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকান। ডাক্তারদের হাতের কাছে এটা ওটা দেওয়ার সুবাদে এদেরই একজনের আত্দবিশ্বাস এবং লোভ এতই বেড়ে গেছে যে, সে তার গ্রামের অশিক্ষিত, সহজ সরল দুজন মানুষকে তার গোয়ালঘরে শুইয়ে অপারেশন করেছে। একজন সঙ্গে সঙ্গেই অক্কা পেয়েছেন। অন্যজন তখন পর্যন্ত বেঁচে থাকলেও পরবর্তীতে কী অবস্থা হয়েছে সেটা আর জানা যায়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেই লোক তখন বলেছিল- ডাক্তাররা কাটেন সেই সময় তো আমরা থাকি, দেখি, সাহায্য করি; আর সেলাইয়ের কাজ তো ওনারা আমাদের দিয়ে অনেক করিয়েছেন, তাহলে আর অসুবিধা কী?

সাংবাদিকদের অনেক ধন্যবাদ যারা এগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন। তবে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদৌ এসব খবর চোখে পড়ে কিনা সেটাই চিন্তার বিষয়। মন্ত্রীরা অতি ব্যস্ত থাকেন বিধায়, সাধারণত প্রতিদিন বিভিন্ন খবরের কাগজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবরের (নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের তো বটেই) পেপার কাটিং পাতায় পাতায় পেস্ট করে ফাইলে করে তাদের সামনে দেওয়া হয়। সচেতন মন্ত্রীর এসব ব্যাপার চোখে না পড়ার কথা নয়। শুধু মন্ত্রী কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আমি অনুরোধ করব তারা যেন অনুগ্রহপূর্বক নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে একটু নজর দেন।

১. ভুয়া ডাক্তার চিহ্নিত করতে সাম্প্রতিককালের ডাক্তারদের সনদপত্র যাচাই-বাছাই অভিযান চালানো। ২. সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্রাইভেট চেম্বার ভুয়া ডাক্তারমুক্ত করা। ৩. ভুয়া ডাক্তার এবং তাদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা। ৪. অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের ব্যাপারে দেশের প্রখ্যাত, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কিছু বিধিনিষেধ প্রস্তুত করে সতর্কীকরণ নীতিমালা রূপে প্রত্যেকটি সেবাকেন্দ্রে প্রেরণ এবং অবশ্য পালনীয় হিসেবে আদেশ জারি করা। ৫. শক্তিশালী পরিদর্শক কমিটি গঠন। প্রতিটি উপজেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিদর্শন, সঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসার নামে যে কোনো ধরনের হঠকারিতা বা ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি রোধে ত্বরিতগতিতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

আমাদের দেশে জনগণের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ বহু চিকিৎসক এখনো আছেন, যারা নীরবে-নিভৃতে মানবসেবা করে যাচ্ছেন এবং এখনো সমাজে এদের সংখ্যাই বেশি। সাধারণভাবে চিকিৎসা পেশা বা চিকিৎসকদের হেয়প্রতিপন্ন করা আমার এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য একেবারেই নয়। তবে ভালোর সঙ্গে খারাপ দিকটা তুলে ধরা নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য। এটাও অনস্বীকার্য যে, আজকাল শুধু চিকিৎসা পেশায়ই নয়, সব পেশাতেই দেখা যাচ্ছে একটা শ্রেণি নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থে সব মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করছে না। সব পেশার সব অনাচার বন্ধ হোক, এটাই আমাদের কাম্য।

লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, বাংলাদেশ।(ডেস্ক)