(দিনাজপুর২৪.কম) করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় নিজ বাড়িতে রাখতে পারেনি গ্রামবাসীদের বাধায়। হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসা করালেন না চিকিৎসকরা। এক এক করে চারটি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা পেলেন না। শেষ পর্যন্ত এক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিলেও ছেলেকে বাঁচাতে পারেনি এক বাবা।

শনিবার রাতে আল আমিন (২২) নামের ওই যুবক রামেক হাসপাতালে মারা যান।

মৃত আল আমিন নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার অলংকার দিঘি গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে।

ছেলেটির বাবা মোখলেসুর রহমান জানান, আল আমিন নারায়ণগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মীর কাজ করতেন। শনিবার সকালে প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফিরলে গ্রামের লোকেরা তাকে গ্রামে রাখতে বাধা দেন। পরে তাকে দ্রুত নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা আল আমিনকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করেন ও ফেরত পাঠান।

পরে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও তাকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করা হয়। পরে রানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুনকে জানালে তার হস্তক্ষেপে আল আমিনকে প্রথমে রানীনগর উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আবার নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিকালে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আল আমিনকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, আল আমিনের লাশ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে আল আমিন করোনায় নয়, মস্তিস্কের সংক্রমণ বা মেনিনজাইটিস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভর্তির সময় তার শরীরে জ্বরের মাত্রা তীব্র ছিল। মাথা ব্যাথা ও গলা ব্যথা ছিল।’ -ইউএনবি।