(দিনাজপুর২৪.কম) করোনাকালে সরকারের আয় বাড়ছে না। তাই ব্যয়ের ফর্দে লাগাম টানা হয়েছে। কৃচ্ছ্রসাধনের নীতিতে চলছে সব কিছু, কিন্তু তার পরও কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। ফলে সমাপ্ত ও চলমান প্রায় দুই হাজার ৫০০ উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ থোক বরাদ্দ থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের ইতিহাসে আগে কখনোই এমনটি ঘটেনি। এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৩ বছর আগের প্রকল্পও রয়েছে। থোক বরাদ্দের অর্থ বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় করলে অন্য খাত বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বেতন-ভাতা কোথা থেকে দেওয়া হচ্ছে সেটা বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হলো বেতন বন্ধ থাকছে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে এক পকেট থেকে আরেক পকেটে অর্থ দেওয়া যেতেই পারে। এতে কোনো সমস্যা হবে না।’

সূত্র মতে, বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখা হয় বিশেষ প্রয়োজন কিংবা আপৎকালে ব্যবহারের জন্য। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি থোক বরাদ্দ রাখা আছে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায়। এ খাতে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রেখেছে। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে করোনার ভ্যাকসিন কেনা বাবদ খরচ হবে আট হাজার কোটি টাকা। বাকি দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে এক হাজার কোটি খরচ করা হয়েছে অক্সিজেন, ভেন্টিলেটরসহ করোনার সামগ্রী ক্রয় বাবদ। এ খাতে রয়েছে আরো এক হাজার কোটি টাকা।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সংসদ সদস্যদের জন্য পাঁচ কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ রয়েছে। এই অর্থ সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যয় করে থাকেন। এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে রাখা আছে আরো এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এসব খাত থেকে কিছু অর্থ সাশ্রয় বা সমন্বয় করে সমাপ্ত এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এবং সমাপ্ত কিংবা বর্তমানে চলমান প্রকল্পগুলোর কর্মচারীদের চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের বেতন-ভাতা বাজেটের থোক বরাদ্দ থেকে পরিশোধ করা যেতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগ বলেছে, স্থায়ী কমিটি যেসব পদের জন্য সুপারিশ করেছে, শুধু সেসব পদের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অর্থ ছাড় করা যেতে পারে। এ ছাড়া অর্থ বিভাগ বলেছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশ করা হয়ে থাকলে এবং স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকলেই শুধু সে ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কেস টু কেস পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দিতে হবে। তবে থোক বরাদ্দ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেতন-ভাতা দেওয়া ঠিক হবে না। -ডেস্ক