(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর পার্বতীপুর উপজেলার মনিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষক সহ অভিভাবক ও সুধীমহল। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মনিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুরে অভিযোগ সমূহের প্রকাশ্য তদন্ত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বিভাষ চন্দ্র বর্মন। তদন্তকালে অভিযোগকরাী, এলাকাবাসি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক), দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসসহ নানা দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
অভিযোগে জানা যায় ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিদ্যালয়টিতে আজ পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক পরিবর্তন হয়েছে ৩ বার। দূর্ণীতির প্রতিবাদ করায় মোফাজ্জেল হোসেন ওরফে ফিরোজ নামের এক শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। আব্দুর রহিম নামের এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি টাকা নিয়ে আজও ওই শিক্ষকের বিল না করায় তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে টাকা নিয়ে স্কুলের উন্নয়ন না করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি পকেট কমিটি গঠন করে স্কুলের সমস্ত টাকা লুটপাট করেছেন। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অনেক গোপন তথ্য। ১০ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও ভুয়া অভিজ্ঞতা পত্র দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। স্কুলে কোন জমি দান না করেও দাতা প্রতিষ্ঠাতা হয়েছেন মো: জয়নাল আবেদীন। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৪২/১৯ অন্য। স্কুল সূত্র জানায় প্রধান শিক্ষক তার দুর্নীতি অপকর্ম ঢাকতে প্রাক্তন সদস্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যাকডেটে সই স্বাক্ষর নিচ্ছেন। এরেই মধ্যে এজাজুল হক নামের এক অভিভাবক সদস্য তার স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছেন। আব্দুস সাত্তারসহ অন্যান্য সদস্যরা স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মো: রফিকুল ইসলাম জানান কমিটি গঠনে সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি মহোদয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি মনোনয়ের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন কিন্ত প্রধান শিক্ষক সহযোগীতা করছেন না। ওনি বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি করতে চান। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ জানান শিক্ষকদের দীর্ঘ দিন টাইম স্কেল না দেওয়ায় ঘটনার সুত্রপাত হয়েছে। -ডেস্ক