(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ যে সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, তা দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মতো এত বড় পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার সক্ষমতা দেশে এখনো নেই।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত এক সভায় গাজীপুরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মুনাজ আহমেদ নূরের নেতৃত্বে তৈরি করা ওই সফটওয়্যারটি বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করে তাদের মত দেন। প্রস্তাবিত ওই সফটওয়্যারটি যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুসহ মোট পাঁচজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে কমিটি গঠন করেছিল ইউজিসি।

ইউজিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া নেটওয়ার্ক ও কারিগরি সমস্যার কারণে অনেক ভর্তি ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন নাও হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের কোনো দেশে একটিমাত্র সফটওয়্যার দিয়ে বড় পরিসরে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় না। সফটওয়্যার দিয়ে যদি পরীক্ষা নিতে হয় সেক্ষেত্রে ইউজিসিকে একটি নীতিমালা করার পরামর্শ দেয় কমিটি।’

বৈঠকে উপস্থিত ইউজিসির একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় প্রস্তাবিত সফটওয়্যারের উদ্ভাবক মুনাজ আহমেদ নূর উপস্থিত হয়ে সফটওয়্যারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেখানে তিনিও বলেছেন, ওই সফটওয়্যারটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্তমান অবস্থায় অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপযোগী নয়।’

এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হবে, তা জানতে চাইলে ইউজিসির একজন সদস্য বলেন, ‘সেটি পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেছিলেন উপাচার্যরা। এ জন্য গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের নেতৃত্বে তৈরি করা সফটওয়্যারকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। -ডেস্ক