(দিনাজপুর.২৪.কম) একাদশ শ্রেণীতে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতি চালু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বছর শিক্ষার্থীরা কোন কলেজে ভর্তি হবে তা নির্ধারণ করবে শিক্ষা বোর্ড। অনলাইনে শিক্ষার্থীর আবেদনের পাঁচটি পছন্দক্রম থেকে একটি কলেজ নির্ধারণ করা হবে; যেখানে শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতে হবে। তবে অভিযোগ উঠেছে, নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে নানা প্রতারণা করছে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এ কারণে অনেকেই কাক্সিক্ষত কলেজে ভর্তি হতে পারবে না বলে আশঙ্কা করছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই দেখছেন তার আবেদন আগেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। এমনকি তাদের না জানিয়েই কলেজের পছন্দক্রম দেয়া হয়েছে। রাজধানীর বিতর্কিত ও বাণিজ্যনির্ভর কয়েকটি কলেজ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান প্রতারণা করে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করে নিজ কলেজকে এক নম্বর পছন্দ দিয়ে দিয়েছেন। এতে অনেক শিক্ষার্থীই আবেদন করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনলাইন ভর্তিতে প্রতারণার শিকার এমন ৫২টি অভিযোগ বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দিতে আসা এক ছাত্রী জানান, এবার এসএসসিতে আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। কলেজ ভর্তির আবেদন করতে গিয়ে দেখেন তার আবেদন হয়ে গেছে। আবেদনের প্রিন্ট কপিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের শীর্ষে একটি বেসরকারি কলেজ তার প্রথম পছন্দের কলেজ। এছাড়াও বাকি চারটি কলেজের মধ্যে তিনটি বেসরকারি একটি এমপিওভুক্ত কলেজ।
রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকার মোল্লারটেক উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীর বেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই স্কুল থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া একজন শিক্ষার্থী জানায়, ওই শিক্ষার্থী আরো ভালো কলেজে ভর্তির  জন্য অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে যখন তা জমা (সাবমিট) দিতে যাবে, তখন দেখতে পায় তার আবেদন আগেই জমা হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, তার আবেদনে প্রথম পছন্দ হিসেবে মোল্লারটেক উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম দেয়া হয়েছে। পরে ওই শিক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে এ বিষয়ে অভিযোগপত্র দিলে তা সংশোধনের সুযোগ করে দেয়া হয়।
জিপিএ ৫ পাওয়া এক ছাত্রের অভিভাবক জানান, অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে তিনি পছন্দক্রমে ভুলবশত ঢাকা কলেজের পরিবর্তে অন্য একটি কলেজের নাম নির্ধারণ করেন। কিন্তু পরে এই ক্রম পরিবর্তনে বারবার চেষ্টা করেও তা পরিবর্তন করা যায়নি। একইভাবে অনলাইনে আবেদন শেষ করে টেলিটকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ, মুঠোফোনে আবেদন, কলেজ নির্ধারণ ইত্যাদি নানা সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এসব সমস্যা ও ভোগান্তির বিষয়ে ওয়েবসাইটে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আসা একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কেউ হয়তো আবেদন করার পর টেলিটকে টাকা জমা দিতে পারছেন না, কেউ আবার আইডি-পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করতে পারছেন না। আবার অনেকে আবেদনের কোনো ভুল পুনরায় আর সংশোধন করতে পারছেন না। অনেকে আবার অনলাইনে আবেদন করলেও টেলিটকের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারছেন না।
আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শীতল চন্দ্র দে এবং সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম অনলাইনে শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে ভর্তি ফরম আগেই পূরণ করেছেন। এতে করে ওইসব ছাত্রী আর অন্য কোনো কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারছে না। শিক্ষার্থীরা জানান, অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ করতে গিয়ে জানতে পারে তাদের সম্মতি না নিয়েই আবেদন পূরণ করে ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পছন্দ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ শাখা খোলার অনুমতি পেলেও অবকাঠামো নেই এবং শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় এ স্কুলের কলেজ শাখায় ভর্তি হলে তাদের শিক্ষা জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধান শিক্ষক শীতল চন্দ্র দে বলেন, এটি তারা করেননি। এটি বোর্ড থেকেই হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়ার নতুন নিয়ম অনুযায়ী গত শনিবার থেকে দেশের আট হাজার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত এ আবেদন চলবে। রাজধানীর কয়েকটি কলেজ এ ধরনের ভর্তি প্রতারণায় লিপ্ত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে একটি মনিংটরিং সেল গঠনসহ তাদের সমস্যা সমাধান করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থী যদি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হন তবে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে নিজ নিজ বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক বরাবর আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারীকে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের কপি এবং মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, এ ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, শিগগিরই ভর্তি সংক্রান্ত একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হচ্ছে। যদি কোনো কলেজ এ ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। –( ডেস্ক)