-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হচ্ছে না। করোনা ভাইরাসের কারণে এক বছর পিছিয়ে গেছে ক্রিকেটের এই মেগা ইভেন্ট। আইসিসি জানিয়েছে, আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট। ২০২১ সালের বিশ্বকাপ পিছিয়ে হবে ২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে।

 ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এখন তা পিছিয়ে গেছে ২০২৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে। আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) তাদের স্থগিত হয়ে যাওয়া সিরিজগুলো নতুন সূচিতে আয়োজনের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, প্রাধান্য দেওয়ার তালিকায় সবার ওপরে রাখা হয়েছে শ্রীলঙ্কা সফরকে। বিসিবি ও শ্রীলংকা ক্রিকেট (এসএলসি) চাইলে অক্টোবরে আয়োজন করা হতে পারে স্থগিত হয়ে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

এ মাসের শেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তিনটি ম্যাচের আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দুই বোর্ডের সম্মতিতেই তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের এ টেস্ট সিরিজই নতুন সূচিতে অক্টোবরে আয়োজন করা যায় কি না, সে বিষয়ে ভাবছে বিসিবি।

 করোনাভাইরাসের কারণে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের কয়েকটি সিরিজ ইতোমধ্যে স্থগিত হয়ে গেছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল। এ সফরে ছিল একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট ম্যাচ। তা পিছিয়ে গেছে। পিছিয়ে গেছে মে মাসের আয়ারল্যান্ড সফরও। আয়ারল্যান্ডে তিনটি ওয়ানডের পর ইংল্যান্ডে চারটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল দুই দলের।

এ ছাড়া জুনে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। বিসিবি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে তা স্থগিত হয়ে গেছে। এরপর স্থগিত হয়ে গেছে জুলাইয়ের শ্রীলঙ্কা সফর। আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল নিউজিল্যান্ডের। তাও পিছিয়ে গেছে। এখন নতুন সূচিতে স্থগিত হয়ে যাওয়া সিরিজগুলো আয়োজন করতে আগ্রহী বিসিবি।

নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, দুই বোর্ডই (বিসিবি ও এসএলসি) এ বছর টেস্ট সিরিজ আয়োজনে আগ্রহী। আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি টুর্নামেন্টের তারিখ জানিয়েছে। আমরা এখন জানি যে ওই তিনটি টুর্নামেন্টে কবে শুরু হবে। তাই আমরা এখন আমাদের আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে কাজ করতে পারব।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ প্রসঙ্গে বিসিবির সিইও বলেছেন, দুই বোর্ডই এ বছর টেস্ট সিরিজ আয়োজনে ইতিবাচক আছে।

 শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, স্থগিত হয়ে যাওয়া আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়েও ভাবছে বিসিবি। বিসিবির সিইও বলেছেন, আমরা ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের সঙ্গেও কথা বলব। যদিও ওখানকার আবহাওয়া একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সময়মতো বাংলাদেশ সফর করতে পারলে আমরা আলোচনা করব।

২০২০ সালে প্রথমবারের মতো এক বছরে সর্বোচ্চ ১০টি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সুযোগটা কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। শ্রীলঙ্কা সফর না হলে মুমিনুল হকদের এ বছর শেষে দুই টেস্ট খেলেই তৃপ্ত থাকতে হবে।

 মার্চে শুরু হয়েছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় প্রথম রাউন্ড শেষেই লিগ বন্ধ ঘোষণা করেছে বিসিবি। এরপর থেকেই ঘরবন্দী ছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে সম্প্রতি ক্রিকেট চর্চায় ফিরেছে বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় অনুশীলন শুরু করেছেন জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। ঢাকা লিগ দিয়ে দেশের ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের ক্যাম্প শ্রীলঙ্কায় হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরে এইচপি দলের সম্ভাব্য শ্রীলংকা সফর নিয়ে অনেক ভাবনাই রয়েছে বোর্ডের। এইচপি কমিটির চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান বলেছেন, প্রস্তুতি ক্যাম্প এখানেও হতে পারে, শ্রীলঙ্কাতেও হতে পারে। দুই জায়গায়ই হতে পারে। সেটাও আমাদের মাথায় আছে। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার  সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করব, তারা কীভাবে আয়োজন করতে পারে। -ডেস্ক